শেষ ঘন্টা -সৈয়দ শাহ আবদুল মুগনী-PDF Download

প্রকাশনায়

বাংলাদেশ ইসলামিক ইনস্টিটিউট পরিচালিত আধুনিক প্রকাশনী ২৫, শিরিশদাস লেন বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০ ফোন : ৭১১৫১৯১, ৯৩৩৯৪৪২ ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭১৭৫১৮৪

মুদ্রণে

বাংলাদেশ ইসলামিক ইনস্টিটিউট পরিচালিত আধুনিক প্রেস ২৫, শিরিশদাস লেন বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০

ইয়াজুজ-মাজুজ

হযরত ইবরাহীম আ.-এর সময় একজন বাদশাহ ছিলেন যার নাম ছিল যুলকারনাইন। হযরত ইবরাহীম আ. এবং তিনি প্রথম কা’বা শরীফ প্রদক্ষীণ করেন। তিনি ছিলেন হযরত ইবরাহীম আ.-এর একজন বিশ্বস্ত অনুসারী। যুলকারনাইন ছিলেন অত্যন্ত সৎ এবং একজন বিখ্যাত শাসক। আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি একজন শক্তিশালী বাদশাহ হিসেবে পূর্ব দিক থেকে শুরু করে পশ্চিম দিক পর্যন্ত শাসন করতেন। একবার তিনি পূর্বদিকে ভ্রমণ করেছিলেন। ভ্রমণ করতে করতে তিনি এমন এক জায়গায় থামলেন যেখানে দুটো বড় বড় পাহাড় আছে। দু’ পাহাড়ের মধ্যবর্তী এক জায়গা থেকে তিনি এক ধরনের মানুষ বেরিয়ে আসতে দেখলেন যারা অন্যদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। এরাই ইয়াজুজ-মাজুজ। এরা তুর্কি জাতীয় দুটো দল যাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন তার্কদের জনক ইয়াফিত। এরা ওই এলাকায়

প্রচণ্ড সন্ত্রাস এবং অরাজকতার সৃষ্টি করে। ওই এলাকার লােকেরা ফুল কারনাইনকে তাদের এবং ইয়াজুজ মাজুজের মধ্যে এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে অনুরােধ করল যাতে তারা সে প্রতিবন্ধকতা ভেদকরে তাদের লােকালয়ে আর না আসতে পারে। যুলকারনাইন একজন খুব বুদ্ধিমান এবং শক্তিশালী বাদশাহ ছিলেন। তিনি স্থানীয় লােকদের সহযােগিতায় লােহা, তামা এবং সীসা দিয়ে তৈরি করলেন একটা শক্ত দেয়াল। ইয়াজুজ মাজুজ দেয়াল ভেদ করার অনেক চেষ্টা করল, কিন্তু ব্যর্থ হল তাদের আপ্রাণ চেষ্টা। সেই থেকে তারা শতাব্দির পর শতাব্দি দেয়াল খুঁড়ে পথ বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। হাদীসে বর্ণিত আছে, আবু হুরাইয়রা রা. বর্ণনা করেছেন, রাসূল স. বলেছেন, প্রতিদিন ইয়াজুজ-মাজুজের দল ভেঙ্গে ফেলার জন্য দেয়াল খুঁড়তে থাকে। খুঁড়তে খুঁড়তে যেই তারা খননকৃত দেয়ালের ভিতর দিয়ে সূর্যের আলাে দেখতে পাবে, তারা খনন কাজ বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে যাবে এবং বলবে, আগামীকাল বাকিটুকু খননকরে আমরা বের হব। কিন্তু বিশ্রাম নিয়ে পরের দিন যখন তারা বাকি অংশটুকু খুঁড়তে যাবে তারা দেখবে সেখানে খননের চিহ্ন নেই। দেয়াল আবার আগের মত শক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু একদিন যখন তারা সূর্যের আলাে দেখতে পাবে, তারা বিশ্রাম নিতে যাবে এবং বলবে আল্লাহর ইচ্ছা…….