ফাযায়েলে আমল

উল্লেখ্য,এই বইটি তাবলীগ জামাতের ফাযায়েলে আমল না। কোন প্রকার অবাস্তব কিচ্ছা কাহীনি এই বইয়ে উল্লেখনেই।

বইটি কোরান ও হাদীসের আলোকে লিখা হয়েছে।

এই বইয়ের সকল হাদীস সহীহ

তাহক্বীক :

আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী।

হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী ইমাম শামসুদ্দীন আয-যাহাবী।

আল্লামা হায়সামী আল্লামা বুসয়রী।

শু’আইব আরনাউত্ব।

আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির |

ডক্টর মুস্তফা আল আযমী।

এবং অন্যান্য মণীষীগণ।

বইটির লেখক ঃ

আহসানুল্লাহ বিন সানাউল্লাহ

দাওরা হাদীস (এম, এম, আরাবিয়্যাহ) এম.এ (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়), এম. ফিল (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

প্রকাশনায় : আল্লামা আলবানী একাডেমী

যোগাযােগ : ০১১৯৯-১৪৯৩৮০

০১৬৮১২৭৬৭২৪

সংকলনে : আহসানুল্লাহ বিন সানাউল্লাহ

যােগাযােগ : ০১১৯৯-১৪৯৩৮০

স্বত্ত্বাধীকার : লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত

চতুর্থ প্রকাশ : অক্টোবর, ২০১২

প্রাপ্তিস্থান : হুসাইন আল-মাদানী প্রকাশনী

৩৮ বংশাল নতুন রাস্তা, ঢাকা-১১০০ ফোন : ৭১১৪২৩৮, ৯৫৬৩১৫৫

অঙ্গসজ্জায় : সাজিদুর রহমান।

কম্পিউটার কম্পােজ : আহসান কম্পিউটাস

মূল্য : ৪৮০ (চারশাে আশি) টাকা

বইটি এখান থেকে ডাউনলোড করে নিন এবং ভালো লাগলে শেয়ার করুন 

কেন এই গ্রন্থ সংকলন ?

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম সকল প্রশংসা মহান রব্বল আলামীনের জন্য এবং দরূদ ও সালাম প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর প্রতি। প্রতিটি মুসলিমের ফাযীলাতপূর্ণ ‘আমলের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে কারণ ফাযায়িলে আ’মাল হচ্ছে এমন উত্তম ও উপকারী কার্যাবলী, যার সফলতা ও পুরস্কারের কথা স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) ঘােষনা করেছেন।

যেহেতু বান্দাকে সাওয়াব প্রদান একমাত্র আল্লাহ রব্দুল ‘আলামীনেরই কাজ তাই ওয়াহী ভিত্তিক দলীল ব্যতীত অর্থাৎ কুরআন ও সহীহ হাদীস ছাড়া এ বিষয়ে কারাের কোন মনগড়া উক্তি বা কিচ্ছা-কাহিনী গ্রহনযােগ্য নয়। কারণ ইসলাম বিশুদ্ধ দলীল প্রমাণ ভিত্তিক নিখুঁত দ্বীন, যার কোন বিষয়েই সংশয়ের অবকাশ নেই। প্রিয় পাঠক! ফাযায়েল ও অন্যান্য শিরােনামে ফাযীলাতের আমল সম্পর্কে বাংলাভাষায় অনূদিত ও সংকলিত বেশ কিছু কিতাব প্রচলিত আছে।

যেমন, ফাযায়েলে আমাল, ফাযায়েলে ছাদাকাত, ফাযায়েলে হজ্জ, ফাযায়েলে দরূদ, ফাযায়েলে তিজারাত, বার চান্দের ফজিলত ও আমল, নেয়ামুল কুরআন, মকসুদুল মু’মিনীন ইত্যাদি। কিতাবগুলাের কোনটিতে সামান্য এবং কোনটিতে বৃহৎ অংশ জুড়ে রয়েছে ফাযীলাতের ‘আমলের বর্ণনা বাংলাভাষী বহু মুসলিম ফাযীলাতের ‘আমল সম্পর্কিত কিতাব পাঠে অভ্যস্ত বিধায় কিতাবগুলাে কুরআন ও সহীহ হাদীসের রেফারেন্স সহকারে সংস্কার করা হলে খুবই ভাল হয় বরং তা একান্তই জরূরী ।

কারণ কতগুলাে দোষনীয় দিক এ সম্পর্কিত অধিকাংশ কিতাবের নির্ভরযােগ্যতা ও বিশ্বস্ততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যেমন :

১। কিতাবের বহু স্থানে উল্লেখকৃত ফাযীলাতের ‘আমলের পক্ষে আলকুরআন অথবা হাদীস গ্রন্থসমূহের রেফারেন্স উল্লেখ না থাকা।

২। কোথাও বা কুরআন ও হাদীসের রেফারেন্স উল্লেখ না করে উক্ত বিষয়ে কোন ব্যক্তির মনগড়া উক্তি উপস্থাপন অথবা নিজের পক্ষ থেকেই বানানাে কথাকে ফাযীলাত বলে চালিয়ে দেয়া।

৩। কোথাও বা রেফারেন্সসহ হাদীস পেশ করে তার তাহক্বীক উল্লেখ করা। হাদীসটি সহীহ, যঈফ নাকি বানােয়াট, হাদীসটি ‘আমলযােগ্য নাকি প্রত্যাখ্যাত তা উল্লেখ না করা। কোথাও এ বিষয়ে আরবীতে কিছু লিখা থাকলে তা বাংলায় অনুবাদ না করা! ফলে হাদীসটি গ্রহণযােগ্য কিনা অধিকাংশ পাঠক তা জানতে পারছেন না।

৪। ফাযায়েল শিরােনামের কিছু কিতাব বিভিন্ন তরীকার বহু সূফি ও | পাগলদের আজগুবি কিচ্ছা-কাহিনীতে ভরপুর। কিচ্ছাগুলাে আবার। ভিত্তিহীন ও মনগড়া, এমনকি শিরক ও গােমরাহীপূর্ণ । যারা তাওহীদ ও শিক সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞান রাখেন না তারা ঐসব কিচ্ছা কাহিনীর মাধ্যমে ভ্রান্ত আকিদাহ বিশ্বাসে ধাবিত হচ্ছেন। ফলে ঈমানের মূল প্রাণ বিশুদ্ধ তাওহীদী আক্বীদাহ ও সহীহ সুন্নাতী আমল বিনষ্ট হচ্ছে।

৫। কোন গ্রন্থে আবার বিশেষ কিছু পাওয়ার জন্য বিভিন্ন তদবীরের কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর দলীল প্রমাণ পেশ না করে কেবল বহু পরিক্ষিত’ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। যা দলীল হিসেবে গন্য নয় ।

 

৬। নাবী (সাঃ)-কে স্বপ্নে যিয়ারাত করানাের প্রলােভন দেখিয়ে ভিত্তিহীন ও মনগড়া ‘আমলের বর্ণনা। যেমন, বিশ, চল্লিশ, সত্তর ইত্যাদি বার অমুক সময়ে অমুক দিন বা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন অমুক ‘আমল করলে নাবী (সাঃ)-কে স্বপ্নে যিয়ারাত করা যাবে, ইত্যাদি।

 

৭। কোন ব্যক্তি বিশেষের তৈরিকৃত আরবীতে কিছু ছন্দমালাকে বিভিন্ন দরূদ নামে আখ্যায়িত করে নতুন নতুন বিদআতী দরূদের প্রচলন ও তার বহু মিথ্যা ফাযীলাত বর্ণনা করা। যা কোন সহীহ ও হাসান পর্যায়ের হাদীস তাে দূরের কথা বরং কোন যঈফ হাদীসেও পাওয়া যায়

 

প্রিয় পাঠক! খুব ভাল করে জেনে রাখুন, ফাযীলাতের ‘আমলের নামে প্রচলিত যেসব ‘আমল ও তদূৰীরের পক্ষে আল-কুরআন অথবা সহীহ হাদীস থেকে নির্দিষ্টভাবে কোন প্রমাণ উল্লেখ নেই তা দ্বীন ইসলামের অংশ নয়। সুতরাং তা প্রত্যাখ্যাত। | আশা করি, যেসব দ্বীনী ভাই ও প্রতিষ্ঠান এ ধরনের গ্রন্থ প্রকাশ ও সংকলন করেছেন তারা অতিশিগ্ন তাদের প্রকাশিত কিতাবগুলাে থেকে। মনগড়া ও ভিত্তিহীন ফাযীলাতের কথাগুলাে বিলুপ্ত করবেন এবং রেফারেন্স সহকারে কুরআন ও সহীহ হাদীস ভিত্তিক গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশ করে নির্ভেজাল দ্বীনে ইসলাম প্রচারে সাহসী ভূমিকা রাখবেন।

অতঃপর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যা প্রতিটি মুসলিমকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, তা হলাে : মহান আল্লাহ রবুল আলামীনের একত্ববাদ তথা তাওহীদ সম্পর্কে ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাস পরিশুদ্ধ না হলে কোন নেক আমল ফলদায়ক হয় না।

কাজেই শিরক-বিদ’আত পরিহার করুন, হালাল রুজি ভক্ষন করুন, এবং কারাে প্রতি জুলুম করা থেকে বিরত থাকুন। ইনশাআল্লাহ ফাযীলাতের ‘আমল আপনার সৌভাগ্যের পথ খুলে দেবে, আপনাকে সাফল্যমণ্ডিত করবে।

পরিশেষে পাঠকদের প্রতি অনুরােধ জানাচ্ছি, গ্রন্থটিতে কোথাও কোন ভুল পরিলক্ষিত হলে জানালে কৃতজ্ঞ হবে এবং পরবর্তী প্রকাশে তা সংশােধন করবাে ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি গ্রন্থটির ব্যাপারে সুন্দর কোন পরামর্শ থাকলে তা পাওয়ারও প্রত্যাশা রইলাে।

মহান আল্লাহর নিকট আবেদন, তিনি যেন আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল

করেন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দেন- আমীন!

বিনীত

আহসানুল্লাহ বিন সানাউল্লাহ

Aazeen Of Islam