প্রাচীর-PDF Download

প্রাচীর

রেইনড্রপস প্রকাশিত

সম্পাদক

জিম তানভীর

কুরআন এবং আপনি (পর্ব ০১)

সূরা বাকারার শুরুতে মুত্তাকীনদের সর্বপ্রথম বৈশিষ্ট্য হিসাবে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন “আল গায়েব” অর্থাৎ অদৃশ্য জগতের উপর তাদের বিশ্বাসকে। এই বিশ্বাসের সাধারণ ধারণাটির বাইরেও একজন মুসলিমের জীবনে এর আরও কিছু কার্যকরী তাৎপর্য রয়েছে।

প্রথমত, হে মুওয়াহহিদ – আপনি যা বিশ্বাস করেন, তা এই জন্যে বিশ্বাস করেন

যে, তা জনপ্রিয়, সহজলভ্য, আকর্ষণীয় কিংবা আরামদায়ক। আপনি আশেপাশের মানুষগুলাের প্রতিক্রিয়া দেখে সত্য-মিথ্যা, ঠিক-ভুল, গ্রহণীয়বর্জনীয় এসবের মানদণ্ড নির্ধারণ করেন না। বস্তুতঃ এইসব পারিপার্শ্বিক ব্যাপারগুলাে আপনার কাছে অর্থহীন। যদি এই পৃথিবীর ছয়শ কোটি মানুষ কোনাে কিছুতে বিশ্বাস করে, সেটা আপনার বিশ্বাসকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারে না। বরং মাস না যেতেই পাল্টে যাওয়ার প্রবণতায় নিমজ্জিত নিয়ত পরিবর্তনশীল এই জগতে আপনার বিশ্বাসের ভিত্তি হলাে এক অপরিবর্তনীয় জগৎ। সেই জগতের ঠিক আর ভুলের মানদণ্ড কখনাে বদলায় না। সেই জগৎ অপার্থিব সুখ আর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির। জান্নাত আর জাহান্নামের। ফেরেশতা আর শয়তানের অদেখা সেই জগতে ভালাে-খারাপ আর সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত অপরিবর্তিত আছে এবং শেষ সময় পর্যন্ত এমনই থাকবে। এই শাশ্বত মানদণ্ডের নথিপত্র, আল কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে সেই-না-দেখা জগত থেকে। এই নথিপত্র তার মানদন্ড নির্ধারণে মানুষ কী মনে করে, তাদের কাছে নন্দিত বা নিন্দিত হওয়া কিংবা দুনিয়ার পরিবর্তনশীল ধারার গতিপ্রকৃতির মতাে অকিঞ্চির বিষয়গুলােকে মােটেই আমলে নেয় না।

আমার ভাই ও বােনেরা, এই জন্যই কুরআনে বর্ণিত তাওহীদের মানদণ্ডকে আঁকড়ে ধরতে পেরে আপনি নিজেকে সবচেয়ে সফল মনে করেন। এই যুগেও সেই আদর্শের আল ওয়ালা ওয়াল বারা-এর বাহক হতে পারাটাকে আপনি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসাবে গণ্য করেন। আর এই আদর্শই আপনাকে তাগুতের সাথে আপস করা অথবা তাগুতের সামনে মাথা নত করাকে এই পৃথিবীর হীনতম অপমান হিসেবে চিনতে শেখায়। আপনার হৃদয় জনপ্রিয়তা আর বৈষয়িক স্বাচ্ছন্দ্যের পরােয়া না করেই এই আদর্শের উপর অটুট থাকে। কেন? কারণ আপনি যে আদর্শের উপর চলেন তা এমন এক জগৎ থেকে আগত যেখানে

মূল্যবােধ কখনাে পরিবর্তিত হয় না। তাই গায়েব তথা অদৃশ্য জগতের উপর বিশ্বাস আপনাকে সেই অপরিবর্তনীয় মানদণ্ডের মতােই দৃঢ়পদ রাখবে। রাতারাতি ধর্মত্যাগ করা যে সমাজে আধুনিকতায় পরিণত হয়েছে, আজকের সেই সমাজে সূরা বাকারার এই আয়াতগুলাে যেন আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।