নিয়মিত সালাত কায়েমের জন্য ১০০% কার্যকরী দোয়া

ইমান আনার পর একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্তপুর্ণ এবাদত হচ্ছে নামাজ। নামাজ পড়লে যেমন অনেক সওয়াব রয়েছে। ঠিক তেমনি ভাবে নামাজ ছেড়ে দিলেও এর জন্য রয়েছে কঠিন  শাস্তি।

আল-কোরআনের সূরা আল-মুমিনুনের ১ ও ২ নাম্বার আয়তে উল্লেখ আছে যে ,

“মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে,যারা নিজেদের সালাতে বিনয়-নম্র।”

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, বান্দা এবং শিরক-কুফরের পার্থক্য সলাত পরিত্যাগ করা

সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৪৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

এথেকে স্পষ্টত বুঝাই যাচ্ছে যে সালাতের বিষয়ে অবহেলা আমাদের জন্য কতটুকু ক্ষতি বয়ে আনতে পারে কিন্তু তার সর্তেও আমরা নিজে জেনে শুনে বা অজান্তে আমাদের সলাতের ব্যাপারে বেখেয়ালি হয়ে পড়ি শুধু তাই নয় আমরাতো অনেকে এইরকম ভাবি বা বলতে শুনি এমকি হয়তোবা নিজেরা বলেও থাকি যে আমি ভালো কাজ করি আমি মানুষের উপকার করি কিন্তু সালাত প্রতিদিন কায়েম করতে পারি নানান কাজে ব্যস্ত, ব্যবসায় ব্যস্ত অথচ ভালো মতো হিসেব করলে দেখা যাবে যে ওই ব্যক্তির ৫ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করতে দৈনিক ১ ঘন্টা ৫০ মিনিটের বেশি খরচ হয় না আমাদের ২৪ ঘন্টার ভিতর শুধুমাত্র ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট খুব কি বেশি কিছু তাও আমরা বলি না সবসময় সময় পাই না কিন্তু আমি ইমানদার ভালো কাজ করি।

কিন্তু এখন এখানে বুঝার বিষয় হচ্ছে এটা একজন মানুষ কিভাবে সালাত কায়েম না করেও ইমানদার হতে পারে কিভাবে পরিপুর্ণরূপে এতো দৃড় মনবল নিয়ে সে বলতে পারে আমি ভালো কাজ করি তাই সালাতে অবহেলা করলেও সমস্যা নেই

যেখানে কোরআনের সূরা-হুদের ১১৪ নাম্বার আয়তে উল্লেখ আছে যে

আর তুমি সালাত কায়েম কর দিবসের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে*।

নিশ্চয়ই ভালকাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ।

“দিনের প্রথম প্রান্তে ফজরের সালাত, দ্বিতীয় প্রান্তে যোহর ও আসরের সালাত আর রাতের প্রথম অংশে মাগরিব ও ইশার সালাত। [তাফসীর ইবন কাসীর, তাইসীরু কারীমির রহমান]।”

এ থেকে বুঝাই যাচ্ছে ভালো কাজের ভিতরে সবচেয়ে উত্তম হলো সালাত কায়েম করা যা আমাদের মন্দ কাজগুলোকে  মিটিয়ে দেয়।

আজকের এই আর্টিকালটি মূলত তাদের জন্য যারা অনেক চেষ্টা করেও নিয়মিত সালাত কায়েম করতে পারছেন না বা  ইচ্ছা থাকার সর্তেও যাদের সালাত পড়া হয়ে উঠে না।

আজ একটি বিষেশ দোয়া নিয়ে এখানে আলোচনা করা হবে যা আপনি যদি নিয়মিত আমল করেন আশা করা যায় আপনি নিয়মিত নিজের সালাতের প্রতি মনযোগী হয়ে উঠবেন।

এটা কোন সাধারণ দোয়া নয় আল্লাহ তায়ালা নিজেই কুরআনুল কারীমে শিখিয়ে দিয়েছেন। যা নামাজি হওয়ার জন্য ১০০% কার্যকরি এবং পরীক্ষিত দোয়া

সেই দোয়াটি হচ্ছে সূরা ইব্রাহীমের ৪০ নাম্বার আয়াত

رَبِّ اجۡعَلۡنِیۡ مُقِیۡمَ الصَّلٰوۃِ  وَ مِنۡ ذُرِّیَّتِیۡ ٭ۖ رَبَّنَا وَ تَقَبَّلۡ دُعَآءِ

বাংলা উচ্চারণঃ রব্বিজ আলনী মুকীমাছ ছলাতি ওয়া মিন যুররিইয়েতী রব্বানা- ওয়া তাকব্বাল

অর্থঃ‘হে আমার রব, আমাকে সালাত কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও, হে আমাদের রব, আর আমার দো‘আ কবূল করুন’।

এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করবেন যখন ই সুযােগ হয় তখন ই পাঠ করবেন। আশা করি আল্লাহ আপনার দোয়া অতি দ্রুত কবুল করে নিবেন। এবং আপনাকে নিয়মিত সালাত কায়েম করার তাওফিক দান করবেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে এবং মনােযােগ সহকারে আদায় করার তাওফিক দান করুন

“আমিন”