নারী ও পুরুষ ভুল করে কোথায় -আল বাহি আল খাওলি (মিসর)

***শেয়ার করুন আর সদকায়ে যারিয়ায় যুক্ত হোন***

নারী ও পুরুষ ভুল করে কোথায়

মূল

আল বাহি আল খাওলি (মিসর)

অনুবাদ

মােহাম্মদ নুরুল হুদা (দিল্লী)

প্রকাশক

নারী প্রকাশনী

৩৮/৩, কম্পিউটার মার্কেট, ঢাকা – ১১০০

কম্পিউটার কম্পােজ

পিস হ্যাভেন

মুদ্রণে

ক্রিয়েটিভ প্রিন্টার্স

<<Take a look inside the book>>

স্বামী নির্বাচন

একজন যথার্থ স্বামীর যােগ্যতা ও মান নির্ভর করছে তার চরিত্র ও নৈতিক গুণাবলির ওপর। এজন্যে স্বামী নির্বাচনের সময় নারীকে তার ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গীর চারিত্রিক ও ঈমানী বৈশিষ্ট্যকে সামনে রাখতে হবে। প্রকৃত ঈমানদার এবং চরিত্রবান ব্যক্তিই উত্তম স্বামী হওয়ার প্রকৃত যােগ্য ব্যক্তি। এছাড়া যারা ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা, রূপ-সৌন্দর্য ইত্যাদিকে বেশি প্রাধান্য দেয়া তারা আসলে নিজেদের হীন মানসিকতারই পরিচয়ই উপস্থাপন করে। নারীর বিবেচনা করার জন্যে এতটুকুই যথেষ্ট যে লােকটি সুস্থ ও চরিত্রবান মানুষ কিনা। আর পুরুষের সবচেয়ে উৎকৃষ্টগুণ হচ্ছে তার খােদাপ্রেম ও খােদাভীরুতা। ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে যােগ্য ও মর্যাদানে ব্যক্তি হচ্ছে ঈমানদার ও পরহেযগার ব্যক্তি।

এ সম্পর্কে কুরআনে বলা হচ্ছে“তােমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মানী আল্লাহর দৃষ্টিতে সেই ব্যক্তি যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় করে।” এজন্যে যে ব্যক্তি ঈমানদার, চরিত্রবান, শিক্ষিত, মিষ্টভাষী, ভদ্র এবং পরােপকারী, সেই সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি- তা তার পারিবারিক ও বংশ মর্যাদা যাই হােক না কেন, তার দেহের বর্ণ যাই হােক আর পেশা যাই হােক না কেন- সে যে কোনাে পরিবারের যে কোন মেয়ের সাথে বিয়ে করার উপযুক্ত পাত্র। এ বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে মহামানবতার মুক্তির দূত প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাঃ নারী জাতিকে পরামর্শ দিয়ে ইরশাদ করেছেন“যখন তােমাদের কাছে এমন ব্যক্তির বিয়ের প্রস্তাব আসে যে সভ্য ও চরিত্রবান তাহলে তার সাথে বিয়ে করে নাও। যদি তা না কর তাহলে দুনিয়াতে বিভেদ বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে। (তিরমিযী)

The PDF Book Given Below

স্বামী নির্বাচনে নারীর অধিকার নারী

তা সে অবিবাহিতা হােক, বা তালাকপ্রাপ্তা হােক অথবা বিধবা- সে তার বিবাহের জন্যে উত্থাপিত যে কোনাে প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ব্যাপারে সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন। কোনাে মেয়ে বা মহিলাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়ার অধিকার তার পিতা, ভাই বা কোনাে দায়িত্বশীল কারােরই নেই। এ ব্যাপারে প্রিয়নবীর হাদীস অত্যন্ত সুস্পষ্ট। তিনি বলেছেন“স্বামী-পরিচিতা (অর্থাৎ যে বিধবা তা তালাকপ্রাপ্তা) নারীর বিয়ে তার অনুমতি অর্জন ব্যতীত দেয়া যাবে না।” (বুখারী ও মুসলিম)। আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন যে, প্রিয়নবী বলেছেন“কুমারীর (মেয়ের) বিয়ে তার অনুমতি ব্যতীত দেয়া যাবে না।” এ সম্পর্কে আয়েশা (রা) বলেন যে, আমি প্রিয়নবীকে বললাম “কুমারী মেয়েতাে লজ্জা করে, সে কিভাবে অনুমতি প্রদান করবে? প্রিয়নবী জবাব দিলেন তার নীরবতাই হচ্ছে অনুমতি।” (বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী) অর্থাৎ মেয়ের কাছে যদি অনুমতি চাওয়া হয় এবং তাতে সে চুপ করে থাকেকোনাে রকমের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করে তাহলে সেটাকে অনুমতি বলে গণ্য করা হবে। কিন্তু যদি বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা বিয়ে হয়, তার পরামর্শ ও স্পষ্ট ভাষায় অনুমতি ব্যতীত যদি বিয়ে দেয়া হয় তবে সেই বিয়ে বাতিল হয়ে যাবে,,,,,,,,,,,