নব্য ফেরাউনের কারাগার -PDF Download

মূল

আহমাদ রায়েফ – মিশর

ভাষান্তর

শেখ নাঈম রেজওয়ান

আল-খালেদ প্রকাশন

একজন হতভাগার কাহিনী

আরেকজন হতভাগার ঘটনা শুনুন। এ লােকটা জনৈক মিলিটারী অফিসারের সাথে একই বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি ফ্লাটে থাকতাে। একদিন তার স্ত্রী ও সেই সেনা অফিসারের স্ত্রীর মধ্যে কি ব্যাপার নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। সেনা অফিসারের মনে প্রতিশােধের আগুন জ্বলে ওঠল। সে সুযােগের অপেক্ষায় রইল। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সনে যখন মিসরে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়, তখন সেই লােকটাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। সেনা অফিসারের প্রতিশােধ নেয়ার সুযােগ এসে গেল। একদিন হঠাৎ সেনা অফিসারটি সামরিক জেলখানার বারান্দায় তার প্রতিবেশীকে দেখতে পেল । সে তার বিশেষ | ফাইলে প্রতিবেশীর নামটা লিখে নিল। কিছুক্ষণ যেতে না যেতে ঐ | লােকটাকে অন্যান্য অগনিত কয়েদীদের সাথে আর্মি ট্রাকে করে সামরিক আদালতে (যাকে পিপলর্স কোর্ট বা গণ আদালত বলা হত) পাঠিয়ে দেয়া হয়। ঐ সময় তার ভাগ্যে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে যখন সামরিক আদালতের পক্ষ থেকে কোন আদালতি কার্যক্রম ছাড়াই কয়েদীদের জন্য শাস্তি শুনিয়ে | দেয়া হয়। সমস্ত হাজতীকে ভয় ও আতংকের পরিবেশের মধ্য দিয়ে দুটি সারিতে দাঁড় করিয়ে দেয়া হল। একজন সৈনিক এসে প্রতিটি সারির লােকদের একটা তালিকা তৈরী করল। কিছুক্ষণ পর একজন হাবিলদার আসল এবং কর্কষ সুরে উচ্চকণ্ঠে ঘােষণা করল ?

“যারা ডান সারিতে দাঁড়ানাে রয়েছে, আদালত তাদেরকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে, আর যারা বা দিকের সারিতে রয়েছে, তাদেরকে আরাে পাঁচ বছর বেশী সাজা ভােগ করতে হবে। অর্থাৎ পনের বছর।”

সে দিন বা পরের দিন ফৌজী অফিসারের সেই বদ-নসীব প্রতিবেশীকে লীমান তুরুরা’ কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়, যেখানে তাকে বছর বছর ধরে ‘জাবালে মুকাত্তাম’ পাহাড়ের নিচে সূর্যের প্রখর রােদ্রের মধ্যে পাথর ভাঙ্গার মত শক্ত কাজ করতে হয়েছে।